কেনো বাড়ছে তেলের দাম, কারা দায়ী এবং ভোজ্য তেল ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতির পরিণতি কি?

কেনো বাড়ছে তেলের দাম, কারা দায়ী এবং ভোজ্য তেল ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতির পরিণতি কি?

কেনো বাড়ছে তেলের দাম?

পকেটের টাকা আছে বাজারে নেই তেল। হাহাকার সাধারণ মানুষের মনে চেপে বসা এক অজানা ভয়। তবে কি 500 টাকা লিটার হতে যাচ্ছে ভোজ্যতেলের দাম। এতোটুকু শোনার পর আমাদের বদ্ধ উন্মাদ পাগল ঘোষণা করার আগে আমাদের আরো কিছু কথা শোনার অনুরোধ রইল। এক লাখে 38 টাকা লিটার তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের প্রেসার যেন হাই হতে শুরু করেছে। সবকিছুতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ আমাদের পুরনো অভ্যাস। তেলের দাম বেলাগাম হওয়ায় এখানে আমরা গভীর ষড়যন্ত্র খোঁজে নেমে পড়েছি। তবে আমরা কখনোই স্রোতে গা ভাসায় না যে কোন ঘটনার পেছনে যৌক্তিক কারণ খুঁজে বের করে তেলের দামের কারণে শুধু বাংলাদেশের মানুষ না গোটা পৃথিবীর অসহায় মানুষ আটকে গেছে। মুদ্রাস্ফীতির গাণিতিক এক চক্রে কিভাবে ভোজ্যতেল পুরো পৃথিবীর অর্থনীতিতে পারমানবিক বোমা আঘাত হানতে যাচ্ছে। এই নিয়েই আমাদের আজকের স্পেশাল আয়োজন। আজকের এই পোস্ট সম্পূর্ণ পড়লে আপনি যে কাউকে বোঝাতে পারবেন কেন তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এই ভোজ্যতেল কে ঘিরে গ্লোবাল ইকোনমিক পরিণতি কী হতে পারে। কি ঘটতে চলেছে আমাদের বাজারে ভোজ্য তেল কিভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এবং রাজনীতির নতুন হাদিয়া হয়ে উঠল তা জানতে থাকুন পোস্টের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।




শুরুতে জানিয়ে রাখা প্রয়োজন জ্বালানি তেল না শুধুমাত্র, ভোজ্য তেল নিয়ে আমাদের আয়োজন প্রায় পুরো পোস্টে তেল বলে আশা করি দর্শক বুঝতে পারবেন আমি শুধু ভোজ্যতেল যেমন পামওয়েল সানফ্লাওয়ার অয়েল কোথায় বলছি তেলের দাম বৃদ্ধি নতুন কোন সমস্যা না প্রতিবছরই অসামঞ্জস্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে দাম প্রাকৃতিক এবং মানুষ শ্রেষ্ঠ 2 কারণে। আজ তেলের বাজারে আগুন লেগে গেছে ভোজ্য তেল উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে থাকা আর্জেন্টিনায় গতবছর খরার কারণে বিশাল অংকের ফসল নষ্ট হয়েছে এই কারণে কানাডাকে ভোজ্য তেল উৎপাদনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ তো গেল প্রাকৃতিক কারণ এভাবে আরো বেশ কিছু দেশে তেল উৎপাদনে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে সে দেশের সরকারকে তবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে এর পেছনে মানবসৃষ্ট কারণ এই বড় করে দেখা হচ্ছে ইউক্রেন রাষ্ট্রকে নিয়ে আমাদের দেশে অনেকেই ছিলেন গভীর চিন্তায় মগ্ন। আবার অনেকেই হাস্যরসে মেতে উঠেছেন এই যুদ্ধ নিয়ে যারা তাদের দূরদর্শিতার মাধ্যমেই যুদ্ধের কারণে সৃষ্টি হওয়া গভীর ক্ষত দেখতে পেয়েছেন। তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা গেছে দূর দেশে যুদ্ধ নিয়ে। এখন খুব একটা আওয়াজ শোনা গেলেও এই যুদ্ধের কারণে আমরা এখন 200 টাকা লিটার তেল কিনছি।

দর্শক বুঝতে পারবেন কিভাবে রাজশাহীর কারণে আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখনো অস্থিতিশীল চলুন এবার ঢুঁকি আমাদের পোস্টের মূল অংশে রাশিয়ান যুদ্ধের আগে মোট 75 শতাংশ সালফার উৎপাদন করা এবং ইউক্রেন বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ ছিল। যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইউক্রেনে ফসল কাটা বন্ধ হয়ে যায় রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ। অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় কমে গেছে রাশিয়ার উৎপাদন ও রপ্তানি প্রতিবছর প্রায় 85 লক্ষ মেট্রিক টন। ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী দেশ অথচ যুদ্ধের কারণে 1 ছটাক তেল তাদের দেশের বাইরে যাচ্ছে না বর্তমানে দুই দেশের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ। আমরা সয়াবিন তেলের উপর নির্ভরশীল হলে পশ্চিমা দেশগুলো হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারি বন্ধ হওয়ায় সব চেয়ে সংকটে আছে জার্মানির যুক্তরাজ্য এই দুই দেশে সানফ্লাওয়ার অয়েল এর জনপ্রিয়তা সবথেকে বেশি পরিস্থিতি করতে পেরে ইতিমধ্যে জার্মানি রেস্টুরেন্ট খাবার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এ তো গেল সানফ্লাওয়ার অয়েল এর হিসাব নিকাশ। এবার আসা যাক উৎপাদনে এক নম্বরে অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের মোট সরবরাহের 53% পামেলা ইন্দোনেশিয়া থেকেই উৎপাদন স্থিতিশীল থাকার পরও।


আরো পড়ুনঃ চুল পড়া কমাতে কোন কোন খাবার গুলো খাওয়া উচিত!


রহস্যজনকভাবে ইন্দোনেশিয়া সরকার পাম অয়েলের দাম বাড়িয়েছে 1 ডলারে জায়গায় এখন লিটারপ্রতি গুনতে হবে যে ডলার হঠাৎ এই মুদ্রাস্ফীতি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতি আরও হাতছাড়া হতে শুরু করে যখন আসন্ন সংকট মোকাবেলা করতে ইন্দোনেশিয়ার জনগণ ফিলম মজুদ করতে শুরু করে। অন্যদিকে ভারসাম্য বজায় রাখতে বাড়তে থাকে উৎপাদকের উপরে চাপ রপ্তানির উপর ট্যাক্স বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্তের পর গত নভেম্বরে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয় ইন্দোনেশিয়ায়। রাষ্ট্রপ্রধান উল্টো যখন বুঝতে পারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ঠিক সেই সময় এক পারমাণবিক সিদ্ধান্ত নেন একদিন মোট উৎপাদনের 75 শতাংশ রপতানি করলেও তা বন্ধ করে দেন তিনি। সং সম্পর্ক থাকার পরও ইন্দোনেশিয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় পামওয়েল রপ্তানি এখানে একটি প্রশ্ন হয়তো অনেককেই ভাবাচ্ছে উৎপাদন ঠিক থাকার পরও কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন এর মূল কারণ হচ্ছে জনগণের প্রতি আস্থা অর্জন। রপ্তানি বন্ধ করে তেলের দাম নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে ওই দুটোই নিজের গতিতে রাখতে চেয়েছেন এমন সিদ্ধান্তের পর পথচ্যুত হবেন না মাথা ঠিক রাখুন, তবে দাম কেন বৃদ্ধি পেয়েছে এর উত্তরে আমাদের যেতে হবে আরো একটু গভীরে...

খোঁজ নিয়ে এই রহস্যজনক মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জানা গেছে যে উৎপাদক ব্যবসায়ী সমিতি সরকারি কর্মকর্তা আর খুচরা বিক্রেতারা খুচরা বাজারে পাম অয়েলের দাম নির্ধারণ করে মিথস্ক্রিয়া করেছে। তার মূল কারন তারা নিজে 2005 সালে ইন্দোনেশিয়ায় সরকার বায়োফুয়েলের অর্থনৈতিক বিরক্ত করার সুযোগ দেখতে পেয়ে বিশাল অংক ভর্তুকি দিয়ে অসংখ্য বায়ো ডিজেল প্লান্ট তৈরি করে। মূলত এবার পেছনে ভোট দেয়ার কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সবথেকে আশঙ্কায় আছে ইন্দোনেশিয়ার মুষ্টিমেয় পরিবার। ইন্দোনেশিয়ায় পুরো তেল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে রপ্তানি বন্ধ হওয়ার অপেক্ষায় শিশু পরিবার ইন্দোনেশিয়া এবং গোটা বিশ্বে ভোজ্যতেলের বাজারে রাজত্ব করছে তারাই রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় মূলত সৃষ্টি হয়েছে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। কোন দিকে ইন্দোনেশিয়া হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে এদের মহাসঙ্কট শুরু হবে খুব অল্প সময়ের মাঝে কারণ পামওয়েল শুধুমাত্র রান্নাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রসাধনী থেকে শুরু করে চকলেট আর প্যাকেটজাত রুটি তৈরিতে ধনী দেশগুলো ক্ষতিপূরণ দিয়ে পাম অয়েল এর পরিবর্তে ক্যানোলা অয়েল ব্যবহার শুরু করে।


বিলাসিতার দরিদ্রতম দেশ গুলো করতে পারবে না তারাও আটকে পড়বে খাদ্য আর মুদ্রাস্ফীতির চক্রে 2021 সালে খাদ্যের দাম 30 শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য আরও একটি সংকটের কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক 2023 এর মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম আরো 20 শতাংশ বাড়বে। বহু দরিদ্র দেশ ইতিমধ্যে আন্দোলনে নেমেছে এই আন্দোলনের কারণে আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপে আছে দেশগুলো সরকার এসব রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে যাচ্ছে এক মহাজনের দিকে। এভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের কারণে এখন হুমকির মুখে। বিশ্ব অর্থনীতি আর এই পরিস্থিতি বলছে ঢাকা থাকলেও একসময় কেনা সম্ভব হবেনা ভোজ্যতেল এখনই দেশে পর্যাপ্ত মজুদ এরপর 200 টাকা লিটারে কিনতে হচ্ছে। ভোজ্যতেল একসময়ে মজুদ ফুরিয়ে গেলে এই দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা আমাদের চিন্তাশীল দর্শক খুব ভালো করে অনুমান করতে পারছেন। তাছাড়া আমাদের বাংলাদেশের সঙ্কট আরো বেশি হাসি ঠাট্টা করে বলে দেশের ব্যাপারে যদি জানতে পারে কাল কেয়ামত হবে তাহলে তাঁরা কাফনের কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দেবে এমনিতেই সারাবিশ্বে ভোজ্যতেলের এই সংকট এরই মধ্যে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ নিতে পারে সেই বিষয়ে সরকারও অবগত।


তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে সাধারণ মানুষ বিশ্ব রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুজবেনা তেলের দাম বাড়লো কেন তারা দরজাতে সরকারের এতে আরও ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। মানুষ দেয়ালে ঠেকে গেলে হিংস্র হবে এসব কিছুর মাঝে আরও একটি প্রশ্ন হয়তো দর্শক-মনে তৈরি হয়েছে কেন আমরা পামওয়েল উৎপাদন করছে না। তেল নিয়ে গোটা পৃথিবীতে সৃস্টি হওয়া সংকটের মাঝে আমাদের দর্শকদের জন্য একটি সুখবর হচ্ছে 1979 সালে থেকেই আমাদের দেশে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ কক্সবাজার চট্টগ্রাম সিলেটসহ আরো বেশ কিছু জেলা মিলিয়ে মোট প্রায় 100 একর জমিতে পাম চাষ করা হচ্ছে তবে আমাদের দেশে উন্নত প্রযুক্তির কারণে উৎপাদন এগিয়ে চলছে কচ্ছপের গতিতে দেশের চাহিদা মেটাতে এখনও বেশ দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। পাঁচটি ছাড়া একটি দেশ হবে স্বনির্ভর এই শ্লোগানকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলাগুলোতে পুরোদমে চলছে 50 সে সব মিলিয়ে দেশের উৎপাদন থেকে ভোজ্যতেলের মাত্র 10% মেয়েদের বাকি 90 শতাংশ আমদানি করতে বাধ্য আমরা। শেষ করছি দর্শকদের নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। ইউরোপে সুপার মার্কেট দ্বিগুণ দাম দিয়েও মিলছে না তেল। উদ্বিগ্ন আমাদের দেশের সাধারণ মানুষেরা।


দিশেহারা হয়ে পড়েছে অনেকেই। আপনার চিন্তাভাবনা জানিয়ে দিন কমেন্ট বক্সে আর পোস্টি ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট শেয়ার সাথেই থাকুন।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url